কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা গুমের অভিযোগ নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা ভুক্তভোগী নারীর নাম উল্লেখ করে প্রেস রিলিজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকারের কথা বলে; কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রকাশ পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির, নির্বাচিত এমপিবৃন্দ এবং শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একযোগে দেশে আবার গুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বলে প্রচার চালিয়েছেন। বিগত দুই বছরে যারা মবকে উসকে দিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুমের মতো রাষ্ট্রীয় অপরাধকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। অতীতে শত শত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।’
ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গ্রুপ ও পেজ দখল করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই রাজনীতির সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।’
সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘কুমিল্লায় যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তার নাম আমরা ছাত্রশিবিরের প্রকাশিত কোনো কমিটিতে দেখিনি। শিবির তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করেনি।’
তিনি দাবি করেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো বিচার করেনি বলে আমরা মনে করি।’
গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতের প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান করেছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড আইডি থেকে গুমের অভিযোগ তোলেন। পাঁচ আগস্টের পর দেশে যত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার বড় অংশই জামায়াতের আমিরের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।’
সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল ও শাফি ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও মাসুদুর রহমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং গুম ও অন্যান্য ইস্যুতে ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বন্ধের আহ্বান জানান।

আজ থেকে চালু আইসিইউ সুবিধা, উপকৃত হবে ১০ জেলার মানুষ
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৪৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
আইসিইউ নিয়ে সুখবর পাচ্ছে দেশের ১০ জেলার মানুষ। জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় সেখানকার সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)।
প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের ফলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীরা এখন নিজ জেলাতেই উন্নতমানের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব আইসিইউর কার্যক্রম রোববার (১৪ জুন) উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
নতুন আইসিইউ সুবিধা চালু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল এবং বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আইসিইউতে প্রয়োজনীয় পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এসব আইসিইউ চালুর ফলে জেলা পর্যায়েই শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জটিল রোগীদের উন্নত জরুরি ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বড় শহরে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে।
তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি ও মহামারি মোকাবিলার সক্ষমতাও আরও জোরদার হবে।

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু, ব্রাজিলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতারকণ্ঠ.কম।
- আপডেট টাইম : ১১:৪০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হেক্সা মিশনের শুরুতেই হোঁচট খেলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপপর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে ফিরেছিল ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে।
এ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়বঞ্চিত হলো ব্রাজিল।
সেই সঙ্গে সামনে এসেছে অস্বস্তিকর এক ইতিহাসও। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করার পর কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এবারের আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনবার ড্র করেছিল ব্রাজিল। ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, ১৯৭৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ১–১ এবং ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১–১ গোলে সমতা। এই তিন আসরের একটিতেও শিরোপা ছুঁতে পারেনি তারা।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল শেষ করেছিল চতুর্থ হয়ে। ১৯৭৮ সালে তৃতীয় স্থান পেলেও ট্রফির দেখা মেলেনি। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল নেইমারদের।
অন্যদিকে ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপজয়ী অভিযানের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২—প্রতিবারই প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল সেলেসাওরা। পরে সেই আসরগুলোতেই শিরোপা জিতেছে তারা।
অবশ্য কাগজের পরিসংখ্যানে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই ফলাফল নির্ধারিত হয়। এবারের আসরে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা কতদূর যেতে পারে এখন সেটাই দেখার বিষয়।
ড্র হওয়া ব্রাজিলের চার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ
| আসর | প্রতিপক্ষ | ফলাফল |
| ২০২৬ | মরক্কো | ১–১ |
| ২০১৮ | সুইজারল্যান্ড | ১–১ |
| ১৯৭৮ | সুইডেন | ১–১ |
| ১৯৭৪ | যুগোস্লাভিয়া | ০–০ |

৮৮ বছর ধরে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিল
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ব্রাজিল একমাত্র দেশ, যারা বিশ্বকাপের ২৩টি আসরের প্রতিটিতে অংশগ্রহণ করেছে। তারা ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে রেকর্ড পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। বিশ্বকাপ বরাবরই সেলেসাওদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ এবং এমন এক ক্যানভাস, যেখানে তারা যেন শতাব্দী ধরে এক অনবদ্য শিল্পকর্ম তৈরি করেছে। তাদের এই চিত্তাকর্ষক গল্পটি কেবল ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে শুরু হয় না, বরং শুরু হয় উদ্বোধনী বাঁশির মাধ্যমে।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ব্রাজিল অনেক প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়েছিল, কিন্তু তাদের নিজেদের ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে স্কোয়াডটি মূলত রিও দি জানেইরোভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা হারের স্বাদ পায়, যে ধাক্কাটি তাদের সামনের কঠিন পথের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। চার বছর পর ১৯৩৪ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি তাদের জন্য আরও বেশি নির্মম প্রমাণিত হয়।
শুরু থেকেই নকআউট পদ্ধতিতে আয়োজিত সেই টুর্নামেন্টে তারা স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায়, যা ছিল সেই আসরে তাদের একমাত্র ম্যাচ। ফুটবলের এই পরাশক্তির জন্য এটি ছিল একটি হতাশাজনক মুহূর্ত। তবে এটিই ছিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের শেষ পরাজয়।
১৯৩৪ সালের সেই পরাজয়ের পর থেকে প্রথম ম্যাচটি হলুদ-সবুজ শিবিরের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এটি এমন এক দুর্গ, যেখানে তারা টানা ৮৮ বছর ধরে অপরাজিত রয়েছে। এই সময়ে খেলা নিজেদের ২০টি প্রথম ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে ১৭টি, ড্র করেছে বাকি তিনটি।
১৯৭৪ সালের আসরে ব্রাজিল যুগোস্লাভিয়ার সাথে ০-০ গোলে ড্র করে এবং চার বছর পরের আসরে তারা আবারও আটকে যায়। সুইডেনের বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়। এছাড়া, ২০১৮ সালের আসরে তারা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও একই ব্যবধানে ড্র করে।
বাকি সবগুলো ম্যাচে জিতেছে সেলেসাওরা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাদের এই আধিপত্য সম্ভবত মেক্সিকোর বিপক্ষে সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে ওঠে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোকে তিনবার হারিয়েছে তারা, যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। আর এই তিন ম্যাচে তাদের সম্মিলিত গোলের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো— ১১-০।
ব্রাজিলের সবশেষ ২০টি উদ্বোধনী ম্যাচের পরিসংখ্যান এমন একটি দলের ছবি তুলে ধরে, যারা কোনো বাধা মানতে নারাজ। আক্রমণাত্মক ঐতিহ্য তাদের শিরায় শিরায় প্রবাহিত। কারণ এই ম্যাচগুলোতে তারা মোট ৪৯টি গোল করেছে।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম গ্রুপ ‘সি’-এর একটি ব্লকবাস্টার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো আর অতীতের মতো দুর্বল নয়, বরং সেলেসাওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, যারা গত ২০২২ সালের আসরে চতুর্থ স্থান পেয়েছিল।
এই লড়াইটি উভয় দলের জন্যই একটি নির্ধারক মুহূর্ত হতে পারে। তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান সমানে-সমান। দুই দলই একটি করে জয় পেয়েছে।
ব্রাজিলের জয়টি এসেছিল ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৩-০ গোলে। তবে মরক্কোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সামনের কঠিন লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের মার্চে দুই দলের সাম্প্রতিকতম দেখায়, একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মরক্কো।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ইতিহাস:
১৯৩০ উরুগুয়ে: ব্রাজিল ১-২ যুগোস্লাভিয়া
১৯৩৪ ইতালি: ব্রাজিল ১-৩ স্পেন
১৯৩৮ ফ্রান্স: ব্রাজিল ৬-৫ পোল্যান্ড
১৯৫০ ব্রাজিল: ব্রাজিল ৪-০ মেক্সিকো
১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড: ব্রাজিল ৫-০ মেক্সিকো
১৯৫৮ সুইডেন: ব্রাজিল ৩-০ অস্ট্রিয়া
১৯৬২ চিলি: ব্রাজিল ২-০ মেক্সিকো
১৯৬৬ ইংল্যান্ড: ব্রাজিল ২-০ বুলগেরিয়া
১৯৭০ মেক্সিকো: ব্রাজিল ৪-১ চেকোস্লোভাকিয়া
১৯৭৪ পশ্চিম জার্মানি: ব্রাজিল ০-০ যুগোস্লাভিয়া
১৯৭৮ আর্জেন্টিনা: ব্রাজিল ১-১ সুইডেন
১৯৮২ স্পেন: ব্রাজিল ২-১ সোভিয়েত ইউনিয়ন
১৯৮৬ মেক্সিকো: ব্রাজিল ১-০ স্পেন
১৯৯০ ইতালি: ব্রাজিল ২-১ সুইডেন
১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র: ব্রাজিল ২-০ রাশিয়া
১৯৯৮ ফ্রান্স: ব্রাজিল ২-১ স্কটল্যান্ড
২০০২ দক্ষিণ কোরিয়া/জাপান: ব্রাজিল ২-১ তুরস্ক
২০০৬ জার্মানি: ব্রাজিল ১-০ ক্রোয়েশিয়া
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা: ব্রাজিল ২-১ উত্তর কোরিয়া
২০১৪ ব্রাজিল: ব্রাজিল ৩-১ ক্রোয়েশিয়া
২০১৮ রাশিয়া: ব্রাজিল ১-১ সুইজারল্যান্ড
২০২২ কাতার: ব্রাজিল ২-০ সার্বিয়া

ডিজিটাল নিরাপত্তায় এক ধাপ এগিয়ে নীলফামারী জেলা পুলিশ
- নীলফামারী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ১১:২০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, অনলাইন জালিয়াতি দমন এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ইউনিট ‘সাইবার সেল’ যুক্ত হতে যাচ্ছে। জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁনের উদ্যোগে গঠিত হতে যাওয়া এ ইউনিট সাইবার অপরাধ তদন্ত, অনলাইন প্রতারণা শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশি সেবার পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন সাইবার সেলের মাধ্যমে হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে জটিল ও সূত্রবিহীন (ক্লু-লেস) মামলার রহস্য উদঘাটনেও কাজ করবে ইউনিটটি।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার, আইডি হ্যাকিং, ছবি বিকৃত করে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিংসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার হয়রানি প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সাইবার সেল অনলাইন জুয়া, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে সংঘটিত আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করবে। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ নজরদারির আওতায় রাখতে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং নাগরিকদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের নতুন এই সাইবার সেল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে এটি জেলার সাধারণ মানুষের আস্থা ও সেবাপ্রাপ্তির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ! বিরোধী দল কেন বাজেটের সমালোচনা করে?
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্ববায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ! বিরোধী দল কেন বাজেটের সমালোচনা করে?
শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, সমালোচনা করার কারণ আপনারা বাজেটে দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করেননি, লুটপাটের রাস্তা বন্ধ করেননি। তাই আমরা বাজেটের যৌক্তিক সমালোচনা করছি।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে পুনরায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আবারও ব্যাংক দখল শুরু হয়ে গেছে, এস আলমের হাতে আবারও ব্যাংক তুলে দেওয়া হচ্ছে।
বক্তব্যে বিদ্যুতের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বর্তমান বাজেটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হবে না। টেকসই পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশ ও মাটি এক নয়। এটার ফয়সালা ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মাটিতে আধিপত্যবাদ চলবে না।
তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

পেছালো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ
- আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কন্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই। তবে তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আল জাজিরায় শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাঘাই এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ‘যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে, তার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বর্তমান পর্যায়ে এতে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বাঘাই বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদিও এটি আগামীকাল হচ্ছে না, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষর হতে পারে এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য পক্ষের অবস্থানের কারণে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে যেকোনো মন্তব্য বা পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে এবং তা শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে ইরানের সর্বশেষ বক্তব্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পাঁচ মাসে নির্যাতনের শিকার সহস্রাধিক নারী-শিশু: হত্যা ১৮
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৯:০০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
মাত্র পাঁচ মাসে ১ হাজার ৩৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের হর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫০ ও গণধর্ষণের শিকার হেয়েছেন ৬৫ জন। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে ২৩৭ জন নারী ও কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং আত্মহত্যা করেছেন আরও ৬০ জন।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে নারী নির্যাতনের এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উঠে আসে। এতে নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র, বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সামাজিক সংকট এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের নীতিনির্ধারক, সাবেক বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নারী অধিকারকর্মীরা।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সচেতনতার অভাব সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। নারী ও শিশুর অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি ক্লাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সমস্যা সমাজের গভীরে প্রোথিত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং মাদক নির্মূল জরুরি।
তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব স্থাপন এবং দেশের ৩৭টি মেডিকেল কলেজে ও পরবর্তীতে প্রতিটি জেলায় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, সংবিধানে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার কারণে সেই অধিকার সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পর থেকেই নানা ধরনের বৈষম্যের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে সহিংস মানসিকতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ধর্ষণ প্রতিরোধে দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নারীর অধিকার খর্ব করার ক্ষেত্রে এখনো ধর্মকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়। তিনি সাইবার বুলিং ও অনলাইন সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কনটেন্ট নির্মাতা, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে নারী নির্যাতনবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশিষ্ট কলামিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং, সামাজিক অবক্ষয় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার সমাজে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নয়, সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেও এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভিকটিম-কেন্দ্রিক পুলিশিং জোরদার এবং প্রতিটি জেলায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, একটি মানবিক ও সুস্থ সমাজে কোনো ধরনের সহিংসতার স্থান নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে পারবে না; এজন্য সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সংশোধনের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সহিংসতার জন্য কেবল ভুক্তভোগীকে দায়ী না করে অপরাধীর সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা জরুরি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও মাদকাসক্তির পাশাপাশি শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা মানুষের আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সহিংসতা প্রতিরোধে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, নারী নির্যাতন নিয়ে আলোচনায় প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। তিনি বলেন, মাদক ও পর্নোগ্রাফির বিস্তার অপরাধপ্রবণতা বাড়াচ্ছে। পারিবারিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সহিংসতা কমানো সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কোষাধ্যক্ষ মেইনথিন প্রমীলা বলেন, সমাজের প্রান্তিক ও আদিবাসী নারীরা বহুমাত্রিক বৈষম্যের শিকার। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দেশ বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। তিনি বলেন, শিশু ও নারীর জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অপরাধপ্রবণ রাজনীতি এবং সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে ধারাবাহিক আন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নারীকে অধস্তন অবস্থানে রেখে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করছে। গত পাঁচ মাসে প্রায় এক হাজার নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বিচারহীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার গভীর সংকেত বহন করে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধকে শুধু নারী আন্দোলনের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান এই নারী নেত্রী।

এবার ৫-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারালো ব্রাজিল
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:২৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল। স্থানীয় দুটি ফুটবল দল ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা নামে খেলায় অংশগ্রহণ করছে এমন ঘোষণায় প্রচারণা চালানো হলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত হয় ওই মাঠে। এতে ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরুর আগেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমীরা।
নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে ব্রাজিল। কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে ব্রাজিল একের পর এক গোল আদায় করে নেয়। এতে ৫-০ গোলের ব্যবধানে বড় জয় পায় ব্রাজিল।
ব্রাজিলের হয়ে রহিদ দুটি গোল করেন। বাকি তিনটি গোল করেন তামরিজ, রিফাত ও সুমন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করা রহিদ বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ায় আমরা স্থানীয়রাই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দুই দলে বিভক্ত হয়ে এ খেলার আয়োজন করেছি। মাঠে নেমে সবাই দারুণ খেলেছে। ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ভালো করবে এবং এবারও শিরোপা জিতবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আজকের ম্যাচে এখানে ভালো খেলেছি, তাই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছি।
খেলা দেখতে আসা স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী সোহেল মিয়া বলেন, মনে হয়েছে যেন ছোট পরিসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের আসল ম্যাচ দেখছি। মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শক হয়েছে। খেলাটি উৎসবমুখর পরিবেশ অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। সুন্দর খেলা হয়েছে।
খেলার আয়োজক ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক খলিলুর রহমান নয়ন, আমিরুল ইসলাম আমির ও রকিকুল ইসলাম। আয়োজকদের পক্ষ থেকে খলিলুর রহমান নয়ন বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারলে মাদক, জুয়া ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে তাদের দূরে রাখা সম্ভব। এমন ক্রীড়া আয়োজন যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আমরা আশা করছি।
ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

কালিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন
- রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৮:০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ব্রাজিল-মরোক্ক ম্যাচের ফলাফল জানালো সুপার কম্পিউটার
- ক্রীড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপে হেক্সা জয়ের মিশন নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপরীতে খেলবে আফ্রিকার সবেচেয় শক্তিশালী দল মরক্কো।
এদিকে ম্যাচের আগে স্পোর্টস কাস্টিংয়ের সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণে ব্রাজিলকে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। মডেলটির হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৫.৩ শতাংশ, যেখানে মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৯.২ শতাংশ। অন্যদিকে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৫.৪ শতাংশ।
বিশ্লেষণে সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবে উঠে এসেছে ব্রাজিলের ১-০ গোলের জয়। এই স্কোরলাইনের সম্ভাবনা ১৪.৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২-০ ব্যবধানে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য।
নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তিরর অধীনে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে আছেন তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ইগরে থিয়াগো ও এন্দ্রিকের মতো তারকারা। তাদের উপস্থিতি ব্রাজিলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে মরক্কোও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে ওঠা দলটি এবারও আত্মবিশ্বাসী। দলের অন্যতম ভরসা আশরাফ হাকিমি ও সুফিয়ান আমরাবাত। তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থাকায় মরক্কো কিছুটা চাপে রয়েছে।
সুপারকম্পিউটারের মতে, ম্যাচটিতে গোলসংখ্যা কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে ব্রাজিলের জয় এবং ২.৫ গোলের নিচে ম্যাচ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে শক্তিশালী পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবশেষে পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার বিচারে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে চমক দেখানোর সামর্থ্য মরক্কোর রয়েছে। তবে সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস বলছে, এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, তিনি আম্মা ডাকছিলেন হাসিনারে’
- ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যেখানে নুরের অতীত টেনে সমালোচনা করেছেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে মনিরা শারমিন লেখেন, ‘নুরুল হক নুর, আমার সহযোদ্ধা যতবার বলেন জুলাই আন্দোলনের ছাত্রদের তারা তৈরি করেছে, ততবার আমার মনে পড়ে পুরনো দিনের কথা। যখন নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, কিন্তু তিনি “আম্মা” ডাকছিলেন হাসিনারে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গ সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’-র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে, আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন মনিরা শারমিন। সেবারের নির্বাচনেই ভিপি হয়েছিলেন নুরুল হক নুর।

সিরাজগঞ্জে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
- নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৭:০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদত হুসেইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান দুলাল প্রমূখ।
৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষেরোপণ করার ঘোষাণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি জেলার জন্য পৃথকভাবে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেই সঙ্গে এদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় আড়াই হাজার গাছ বিতরণ করা হয়েছে।

ফুলবাড়ীতে ২৯ বিজিবির অভিযান: ভারতীয় ট্যাবলেট ও ইস্কফ উদ্ধার
- হাসান আলী হাকিমপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি: জনতার কণ্ঠ.কম
- আপডেট টাইম : ০৬:২৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল কোচিংগামী শিক্ষার্থীর
- ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ
- আপডেট টাইম : ০৬:১৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। শনিবার (১৩ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলার পৌর শহরের বন্দর এলাকার কুয়েত মসজিদ সংলগ্ন পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিবা রাণী (১৫) ওই এলাকার গোবিলাল ও সুমি রানীর একমাত্র সন্তান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোচিং শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার ওমরাডাঙ্গী সড়কের কুয়েত মসজিদ ও স্থানীয় জামায়াত অফিস সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় শিবা রাণী একটি দ্রুতগতির সেলোমেশিনচালিত ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রাকটির গতি এতটাই বেশি ছিল যে শিবা রাণী রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যায়। মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘাতক যানটিকে আটকের চেষ্টা করেন। এসময় চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসি তাক আটক করে বেঁধে রাখে। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।
আটক ট্রাকচালকের নাম বাবলু হোসেন। তিনি উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছেন।
নিহতের মা সুমি রানী বলেন, সকালে তো হাসিমুখে কোচিংয়ে গেল, আমার মেয়েটা এভাবে লাশ হয়ে ফিরে আসবে, কখনো ভাবিনি।
এদিকে মেয়ের নিস্তব্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে বসে ছিলেন বাবা। যেন মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সমস্ত স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যৎ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শিবার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নিরাপত্তা জোরদার, বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ন্যাশনাল ডেস্ক । জনতার কন্ঠ.কম। 
















































































One thought on “জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ”